Day Night Care

ভিটামিন সি এর উপকারিতা

ভিটামিন সি এর ২৫ টি অতুলনীয় গুন, যা আপনার চুল, স্বাস্থ এবং ত্বকের জন্য খুব উপকারি।

ভিটামিন সি এর উপকারিতা

ভিটামিন সি এর উপকারিতা

ভিটামিন সি – হ্যা, আপনারা খুব ভালো করেই জানেন ভিটামিন সি এর উপকারিতা সম্পর্কে। এমন কাউকে খুজে পাওয়া যাবে না যারা এই ভিটামিন সি এর উপকারিতা সম্পর্কে জানেন না। আর এই ভিটামিন এত বেশি পরিমানে পাওয়া যায় যে এর ঘাটতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।কেননা, প্রায় বেশির ভাগ ফলেই ভিটামিন-সি রয়েছে। প্রধানত টক জাতীয় ফলে ভিটামিন-সি প্রচুর পরিমানে পাওয়া যায়। আর টক জাতীয় ফল খেতে কে-না পছন্দ করে?

কিন্তু আমাদের অনেকেই জানে না যে ভিটামিন সি এর উপকারিতা, এই ভিটামিন আমাদের জন্য কতটা উপকার করতে পারে এবং কী কী দিতে পারে? এই সকল বিষয় জানানোর জন্যই আজকে আমাদের এই পোষ্ট।

আপনারা এই পোষ্টটি পড়লে  জানতে পারবেন,

  1. ভিটামিন সি কী এবং এর কাজ কি ?
  2. ভিটামিন সি এর ঘাটতি কী এবং এর লক্ষন গুলো কি কি?
  3. ভিটামিন সি স্বাস্থ্য এর জন্য কেন উপকারী?
  4. ভিটামিন সি ত্বকের জন্য কেন উপকারী?
  5. চুলের ক্ষেত্রে ভিটামিন সি এর উপকারীতা কি?
  6. কোন কোন খাবারে ভিটামিন সি পাওয়া যায়?
  7. ভিটামিন সি এর সাপ্লিমেন্টস কি?
  8. ভিটামিন সি কিভাবে খেতে হয়?
  9. প্রতিদিন কতটুকু ভিটামিন সি খাওয়া দরকার?
  10. ভিটামিন সি খাবারের ক্ষেত্রে কি কোন প্রকার সাবধানতা অবলম্বন করা উচিৎ?
  11. কোন প্রকার মেডিসিন এর সাথে কি ভিটামিন সি এর কার্যকর কোন পার্শ প্রতিক্রিয়া আছে?

নার্সিং সম্পর্কে জানতে ভিজিট করুন।

#ভিটামিন সি কী এবং এর কাজ কি?

ভিটামিন সি প্রধানত এল-অ্যাসকরবিক অ্যাসিড হিসেবেও পরিচিত।ভিটামিন সি হলো একটি জল-দ্রবোণীয় ভিটামিন। যা বেশ কিছু খাবারে প্রাকৃতি গত ভাবেই মিশ্রিত থাকে এবং কিছু খাবারে যোগ করতে হয়। এবং অন্যান্য জীবের মতো মানুষ এই ভিটামিন সি পরিত্যাগ করতে পারে না। এই জন্য ভিটামিন সি আমাদের একটি অবশ্যম্ভাবী খাদ্য উপাদান।

ভিটামিন সি একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা আমাদের দেহের অনান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুলোকে পুনরায় জীবন বা চেতন প্রাপ্ত করতে সহায়তা করে থাকে।  এটি দেহে নন-হিম আয়রন শোষণ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে এবং সংযোজক টিস্যু তৈরি করতে ও ক্ষয় নিরাময়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এছাড়াও ভিটামিন সি আমাদের ত্বক এবং দেহে ফ্রিতেই র‌্যাডিকেল এর ক্ষতি কারক প্রভাব  থেকে দূরে রাখে।

আমাদের প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ গ্রাম ভিটামিন সি গ্রহন করা উচিৎ।এতে করে ভিটামিন এর ৭০% থেকে ৯০% শোষিত হয়ে থাকে।যদি ভিটামিন গ্রহনের পরিমান দিন ১ গ্রাম ছাড়িয়ে যায় তাহলে ৫০% এর নিচে নেমে আসে।আর আমরা যদি সাপ্লিমেন্ট গ্রহন করি তাহলে দৈনিক ৫০০ মিলিগ্রাম গ্রহন করা সন্তোষজনক।

*ভিটামিন সি এর কয়েকটি রূপ রয়েছে :

  1.  অ্যাসকরবিট আ্যাসিড – ভিটামিন সি  এর বিশুদ্ধতম রূপ।
  2. সোডিয়াাম অ্যাসকরবেট – এই ভিটামিন এর ১০০০ মিলিগ্রাম ১১১ মিলিগ্রাম সোডিয়াম থাকে।
  3. ক্যালসিয়াম অ্যাসকরবেট – এই ভিটামিন এর ১০০০ কিলোগ্রাম এর ৯০ থেকে ১১০ গ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে।
  4. ম্যাগনেসিয়াম অ্যাসকর বেট – দৈনিক ৩৫০ মিলিগ্রাম এর বেশি ম্যাগনেসিয়াম গ্রহন করা যাবে না।
  5. পটাশিয়াম অ্যাসকরবেট – দৈনিক ১১ মিলিগ্রাম এর বেশি পটাশিয়াম অ্যাসকরবেট গ্রহন করা যাবে না।
  6. ম্যাংগানিজ অ্যাসকরবেট – আমরা দৈনিক ১১ মিলিগ্রাম এর বেশি ম্যাংগানিজ অ্যাসকরবেট গ্রহন করবো না।
  7. জিংক অ্যাসকরবেট – দৈনিক ৪০ মিলিগ্রাম এর বেশি জিংক অ্যাসকরবেট গ্রহন না করা উচিৎ।
  8. মলিবডেনাম অ্যাসকরবেট – প্রতিদিন ২ গ্রামের বেশি মলিবডেলাম অ্যাসকরবেট গ্রহন করা যাবে না।
  9. ক্রোমিয়াম অ্যাসকরবেট – ক্রোমিয়াম অ্যাসকরবেট প্রতিদিন কতটুকু গ্রহন করা উচিৎ তা এখনো জানা যায় নি।কিন্তু আর,ডি,এ অনুসারে রয়স্ক এবং কিশোরদের ৫০ এবং ২০০ মাইক্রোগ্রাম এর মধ্যে গ্রহন করা উচিৎ ।

সোডিয়াম অ্যাসকরব্যাট এবং ক্যালসিম অ্যাসকরব্যাট ব্যাতীত, ভিটামিন সি এর অনান্য সকল রূপ গুলো অনান্য খনিজ অ্যাসকরবেট অথবা অন্য খনিজ গুলোর সাথে মিশ্রিত অবস্থায় পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এই সমস্ত গুণাবলী সমৃদ্ধ ভিটামিন সি এর উপকারিতা আমাদের জন্য খুব উপকারী।

“এখন আমাদের আলোচনার বিষয় হ’ল ভিটামিন সি এর ঘাটতি এবং ঘাটতির লক্ষণগুলি কী?”

অক্সিজেন সম্পর্কে জানতে ভিজিট করুন।

*ভিটামিন সি এর ঘাটতি কী এবং এর লক্ষন গুলো কি কি?

যেমনটি সুস্পষ্ট ভাবে বলা যায় না যে, ভিটামিন সি এর অভাব তখনি ঘটে । যখন দেহে ভিটামিন সি দেহে পর্যাপ্ত পরিমানে গ্রহন করা হয় না।আর আমাদের দেহে ভিটামিন সি এর অপর্যাপ্ততার বেশ কয়েকটি লক্ষণ কয়েছে। লক্ষন গুলো হলো :

  1.  মাড়ি ফোলা বা রক্তপাত হওয়া।
  2. মাড়িতে ব্যাথা অনুভব হওয়া ( ইংরেজিতে একে জিনজিভাইটিস বলা হয়ে থাকে।)
  3. যে কোন ক্ষত নিরাময় হতে সময় লাগে।
  4. শুষ্ক এবং আগা ফাটা চুল।
  5. রুক্ষ এবং শুষ্ক ত্বক।
  6. নাক দিয়ে রক্ত পাত  / রক্ত ক্ষরণ।
  7. দূর্বল ইমিউনিটি।
  8. হাড়ের সংযোগ স্থানে ফুলে যাওয়া এবং ব্যাথা করা।
  9. ওজন  বৃদ্ধি না হওয়া।

পর্যাপ্ত পরিমানে ভিটামিন সি গ্রহন করা কেবল মাত্র এই লক্ষন গুলোই প্রতিরোধ করে না। পাশাপাশি অনান্য অনেক সুবিধা প্রদান করে থাকে। যা ভিটামিন সি এর উপকারিতা সম্পর্কে আমাদের আরও ভাবিয়ে তোলে। এখন আমরা কথা বলবো ভিটামিন সি স্বাস্থ্য এর জন্য কেন উপকারী ?

 

*ভিটামিন সি স্বাস্থ্য এর জন্য কেন উপকারী?

ভিটামিন সি স্বাস্থ্য এর জন্য কেন উপকারী

ভিটামিন সি স্বাস্থ্য এর জন্য কেন উপকারী

      1. হার্ট এর স্বাস্থ্য উন্নত করে। 

বাংলাদেশের একদল ডক্টর এর গবেষণায় উঠে এসেছে, ভিটামিন সি হৃদরোগ এর ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে থাকে। একাধিক অধ্যায়নগুলি প্রমান করেছে যে, রক্তে উচ্চহারে ভিটামিন সি আমাদের হৃদরোগ এর ঝুকি হ্রাস এর সাথে সংযুক্ত।

আরও গবেষণায় বলা হয়েছে যে, ভিটামিন সি আমাদের হার্ট এর জন্য ব্যামের মতই কার্যকর।ভিটামিন  সি এর নিয়মিত ডোজ এন্ডোথিলিন-১ নামক প্রোটিনের ক্রিয়াকলাপে বাঁধা দিতে পারে।যেই প্রোটিন ছোট রক্তনালী গুলোকে সংকুচিত করে ফেলে। এবং এটি শেষ প্রর্যন্ত হার্ট অ্যার্টাক এর কারণ হয়। এই ভিটামিন আমাদের রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে এবং আমাদের ধমনী গুলোকে ফ্লেকজিবল রাখে।

স্ট্রেস এর কারণে ধমণীর বড় হয়ে যাওয়ার সমস্যাও ভিটামিন সি সমাধান করে এমনটি খুঁজে পাওয়া গিয়েছে।ভিটামিন সি এর উপকারিতা এর মধ্যে আরও কয়েকটি বিষয় রয়েছে, তা হলো এরা রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি করে। যার ফলে রক্তে অক্সিজেন বহন করার ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল এবং শাকসবজি হৃদরোগ প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে।ভিটামিন সি সমৃদ্ধ নিরামিষ খাবার রক্তের কোলস্টেরলকে ১% কমাতে পারে, হার্ট অ্যাটাকের ঝুকি ২% কমিয়ে দেয়।

ভিটামিন সি এর সাপ্লিমেন্টও সিরামের কোলেস্টরলের মাত্রাকে কমাতে সহায়তা করতে পারে।

      2. রক্ত চাপের স্তর নিয়ন্ত্রন করে 

জনস হপকিন্স মেডিসিনের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, ভিটামিন সি এর অনেক বেশি ডোজ রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে। এটা ভিটামিন সি এর উপকারিতা। ভিটামিন সি মূত্র বর্ধক হিসেবেও কাজ করে থাকে। এবং এর ফলে কিডনি গুলো  শরীর থেকে আরও বেশি সোডিয়াম এবং পানি বের করে দিতে পারে । এটি রক্তনালীর দেয়াল গুলোকে চাপ মুক্ত করে দেয়।

   3.ইমিউনিটি বাড়ায়

ভিটামিন সি এর অভাব নির্দিষ্ট জীবাণুগুলির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য শরীরের ক্ষমতা হ্রাস পায়।একটি গবেষণা অনুসারে, ভিটামিন সি জীবের শক্তি ও সুরক্ষা বাড়িয়ে দিয়ে ইমিউনিটি সিস্টেমকে উদ্দীপিত করে।

ভিটামিন সি  ইমিউনিটি সিস্টেম রক্ষা করার পাশাপাশি বিভিন্ন এলার্জির তীব্রতা হ্রাস করে এবং ইনফেকসন এর বিরুদ্ধে লড়াই করে থাকে। আরও জানা যায় যে, ক্ষততে আক্রান্ত ব্যাক্তিদের ক্ষেত্রে ভিটামিন সি এর উচ্চমাত্রার ডোজ খুবই কার্যকর।

এবং সর্দি-কাশির বেলায় যদিও আরও বিস্তর গবেষণা দরকার, তার পরেও জানা যায় যে, ভিটামিন সি ঠান্ডার ক্ষেত্রে সর্দি-কাশি কমাতে সহায়তা করে। তবে, ভিটামিন সি সর্দি-কাশি রোধ করতে পারে কিনা তা পরিষ্কার নয়। ভিটামিন-সি এজমা রোগ এর সম্ভাবনা মূলক একটি চিকিৎসা হতে পারে। তবে এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত গবেষণা দরকার।

স্বাস্থ্য সম্পর্কে জানতে ভিজিট করুন।

   4. ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে

অসংখ্য ল্যাবরেটরির গবেষণায় দেখা গেছে যে উচ্চ মাত্রায় ভিটামিন সি মূত্রথলী, যকৃৎ, মলাশয় এবং অনাণ্য নানা ধরনের ক্যান্সার কোষ গুলোকে বৃদ্ধি হতে দেয় না। উচ্চ মাত্রায় ভিটামিন সি ক্যান্সার চিকিৎসার ক্ষেত্রে সহায়তা করে।

অস্ত্রোপাচারে উপযোগী নয় এমন ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর দেহের শিরা দিয়ে প্রবেশ করানো যায় এমন ধরনের ভিটামিন সি দেওয়ার ফলে কোনও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়াই টিউমারের আকার উল্লেখ যোগ্যভাবে হ্রাস করা যায়।কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় ভিটামিন সি এর উপকারিতা সম্পর্কে আরও একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে ভিটামিন সি আক্রমনাত্মক ক্যান্সারকে দমিয়ে রাখে।

5. হাড়ের বাতের চিকিতসায় সহায়তা করে।

আর্থ্রাইটিস ফাউন্ডেশনের মতে ভিটামিন সি কিছু ধরনের বাত প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে। কিন্তু এর বেশি প্রয়োগ অনেক সময় আরো খারাপ রূপ নিতে পারে।আর তাই ভিটামিন সি প্রয়োগে ভারসাম্য রাখতে হবে। ভিটামিন সি এর সঠিক ডোজ প্রদাহ হয় এমন বাত প্রতিরোধে সহায়তা করে এবং হাড়ের জয়েন্টগুলোকে স্বাস্থ্যকর রাখে।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে যে যাদের দেহে ভিটামিন সি এর মাত্রা অনেক কম তাদের প্রদাহ জনিত বাত হওয়ার সম্ভাবনা তিন গুন বেশি।তবে যেমনটি আমরা ইতিম্যধ্যে আলোচনা করছি, ডোজ সঠিক হওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেহে ভিটামিন সি এর ডোজ বেশি হলে বাতের ব্যাথা আরো ভয়ানক হতে পারে।

     6. চোখের স্বাস্থ্য উন্নত করে।

বিভিন্ন সাক্ষ্য-প্রমাণ আরো বলেছে যে ভিটামিন সি গ্রহণের ফলে চোখের পানি পড়ার ঝুঁকি কমে যায়। এই ভিটামিন অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির সঙ্গে গ্রহন করলে বয়স সম্পর্কিত ম্যাকুলার অবক্ষয় ও দৃষ্টিশক্ত কমে যাওয়া রোধ করে। এমন কি যারা উচ্চ মাত্রায় ভিটামিন সি গ্রহন করে তাদের চোখের ছানি পড়ার ঝুকি ২০% কম।ভিটামিন সি আপনা রেনিটার কোষ গুলোর সঠিক কার্যকারিতা বাড়াতে পারে। এই ভিটামিন আমাদের চোখের রক্তনালী গুলির স্বাস্থ্য ঠিক রাখে।

ভিটামিন সি চোখের ভিটামিন ই পুনরায ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করে, যা চোখের স্বাস্থ্য আরো উন্নত করে। নিয়মিত ভিটামিন সি গ্রহনের ফলে ইউভাইটিসের চিকিৎসায় সহায়তা করে।

    7.স্বাস্থ্যকর মাড়ি বজায় রাখে।

ভিটামিন সি এর ঘাটতি এর ফলে পিরিয়ডোন্টাল রোগ হতে পারে, যা জিঞ্জিভাইসিসের মারাত্বক রূপ (মাড়ির রোগ)। এর কারণ হলো ভিটামিন সি এর অভাবের প্রাথমিক  লক্ষণ হলো মাড়ির রক্তপাত। এবং এই ভিটামিন সি এর উপকারের ফল হলো দাঁত এবং মাড়ির স্বাস্থ্যের সুরক্ষা।

   8. এলার্জির চিকিৎসা করতে সহায়তা করে।

এটি জানা খুব জরুরি যে, যখন আপনার শরীর হিস্টামিন নিঃসরন করে, এটি একটি বায়োকেমিকেল।ভিটামিন সি হিস্টামিনের নিঃসরন কমিয়ে ফেলে, এতে এলার্জি প্রতিরোধ হয়।

আর একটা জাপানি গবেষণা অনুসারে অটোইমিউন রোগ এবং এই সম্পর্কিত এলার্জি গুলো ভিটামিন সি দ্বারা নিয়ন্ত্রন করা যায়।খড়, জ্বর নিরাময়ে ভিটামিন সি এর উপকারিতা লক্ষ করা যায়।

  9.শুকনো মুখ থেকে মুক্তি দেয়।

কিছু উৎস বলে যে, ভিটামিন সি শুষ্কতা প্রতিরোধ এবং শুষ্কতা দূর করতে পারে।যদিও এই বিষয়ে সীমিত প্রমাণ রয়েছে।

 10.ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

প্রতিদিন সাপ্লিমেন্টারি ভিটামিন সি (১০০০ মিগ্রা) গ্রহণ করলে টাইপ ২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ভালো ফল পাওয়া যায়।ভিটামিন সি আপনার রক্তনালী গুলোকে ডায়াবেটিস জনিত ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে।

জাপানের একটি গবেষণায় উঠে  এসেছে ভিটামিন সি গ্রহনের মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রন করা যায়।কারণ,  এই ভিটামিন দেহের ইনসুলিন প্রক্রিয়াকে জাগিয়ে তুলে। যার ফলশ্রুতিতে ডায়াবেটিস চিকিৎসায় সুবিধা হয়। ভিটামিন ‍সি কে টাইপ ২ ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমাতেও দেখা গেছে।

 11. ভাইরাস সংক্রমণের চিকিৎসা করে।

এলার্জির চিকিৎসায় উচ্চ মাত্রায় ভিটামিন সি খুবিই কার্যকরী। অতীতে এই ভিটামিন সি হাম, চুলকানী, হাম, এবং ভাইরাস ঘটিত নিউমোনিয়ার চিকিৎসার জন্য ব্যাবহার করতে হয়। এছাড়াও, যেহেতু  ভিটামিন সি একটি অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, তাই এটি ক্ষতিকারক ফ্রি র‌্যাডিকাল গুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং ভাইরাস সংক্রামনের চিকিৎসায় সহায়তা করে।

মনোনিউক্লিওসিসের চিকিৎসা (অস্বাভাবিক অনুপাতে সাদা রক্ত কণিকা যা গ্রন্থিময় জ্বর সৃষ্টি করে)করতে উচ্চ মাত্রায় ভিটামিন সি এর ডোজ কার্য়করী বলে পাওয়া গিয়েছে।এটি ফ্রি র‌্যাডিকাল গুলোর বিরুদ্ধেও লড়াই করে যা মনোনিউক্লিওসিসের দিকে দিয়ে যেতে পারে।

 12.স্কারভি প্রতিরোধ করে।

যদিও এই রোগটি এখন বিশ্বে বিরল, ষ্কার্ভি এমন লোক গুলোকে আক্রমন  করে যারা পরিমিত পরিমানে ভিটামিন সি গ্রহন করে না। এই ভিটামিন টি উচ্চ মাত্রায় খাওয়ার পরে এর পার্শ প্রতিক্রিয়া বিরল।

ভিটামিন সি ৩০০ শত বছরের বেশি সময় ধরে এই উদ্দেশ্যে ব্যাবহৃত হয়ে আসছে।দীর্ঘ যাত্রায় ভ্রমণরত নাবিকেরা তাদের খাবার সামগ্রীতে লৈবুর রস রাখতো শুধু মাত্র স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধ করার জন্য। দৈনিক ১০ গ্রাম ভিটামিন সি দিয়ে স্কার্ভি প্রতিরোধ করা যায়। যা ভিটামিন সি এর উপকারিতা এর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

13.স্ট্রোকে বাঁধা দেয়।

ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার স্ট্রোক প্রতিরোধ করতে পারে। বিশেষ করে হেমোরাজিক স্টোক ভিটামিন সি রক্তচাপ হ্রাস করতে পারে স্ট্রোকের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে।দেহে ভিটামিন সি এর সল্পমাত্রার কারনে স্বাভাবিক মস্তিস্কে রক্ত ক্ষরনের ঝুকি বৃদ্ধি পায়।

ভিটামিন সি আয়রনের সাথে যুক্তহয়ে স্ট্রোকের ঝুকি হ্রাস করতে সহায়তা করে থাকে। এছাড়াও একটি সমীক্ষা অনুসারে রক্তে উচ্চ মাত্রায় ভিটামিন সি থাকা লোকেরা তাদের স্ট্রোকের ঝুকি ৪২% কমাতে পারে।

 14. আপনর মন-মেজাজ ঠিক করে।

হাসপাতালে অবস্থান রত রোগীদের উপরে গবেষনা করে প্রমানিত হয়েছে যে পর্যাপ্ত পরিমানে ভিটামিন সি গ্রহন করলে মেজাজকে উন্নত করা যেতে পারে।তাহলে আমরা বলতে পারি ভিটামিন সি এর উপকারিতা হলো মন মেজাজ উন্নত করতে পারে।

 15.ওজন  কমাতে সহায্য করে।

পরিমিত পরিমানে ভিটামিন সি এর গ্রহণের ফলে ব্যামের সময় অতিরিক্ত মেদ ঝরাতে সাহায্য করে।সুতারাং, ভিটামিন সি এর অভাব ওজন  এবং মেদ হ্রাসে বাধা দিতে পারে।  ভিটামিন সি এর উপকারিতা বলে শেষ করার মত না।ভিটামিন সি বিপাক ‍ক্রিয়া বৃ্দ্ধি করে, ফলে ওজন হ্রাসে সহায়তা করে।

 16.শক্তি বাড়ায়

ভিটামিন সি আপনাকে ব্যাথা থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে এবং ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে।সাপ্লিমেন্ট হিসেবে ভিটামিন সি গ্রহন স্কুল ফুটবলার দের প্রশিক্ষণও প্রায় ১০% সহজ করে দিয়েছে এবং ৫৫% ক্লান্তি হ্রাস করেছে।

আরেকটি কোরিয়ান গবেষনায় জানা যায়, ভিটামিন সি স্বাস্থ্যকর কর্মীদের মধ্যে কাজ সম্পর্কিত ক্লান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করে।

রোগ কি? সেই সম্পর্কে জানতে ভিজিট করুন।

 

*ভিটামিন সি ত্বকের জন্য কেন উপকারী?

ভিটামিন সি ত্বকের জন্য কেন উপকারী?

ভিটামিন সি ত্বকের জন্য কেন উপকারী?

ভিটামিন সি এর উপকারিতা আমাদের ত্বকের জন্যও কার্যকর । উদাহরণস্বরূপ, ভিটামিন সি খাওয়ার পাশাপাশি আমরা এটি ত্বকেও ব্যাবহার করতে পারার পাশাপাশি এর উপকারিতাও নিতে পারি। সিরাম কোলাজেনকে উদ্দীপিত করে এবং ত্বককে অন্যান্য ক্ষতিকর কারণ যেমন দূষনের হাত থেকে রক্ষা করে।

  1. জ্বালা পোড়া এবং ক্ষত নিরাময় করে।

ভিটামিন সি ক্ষত নিরাময়ে ভালো কাজ করে থাকে এবং গুরুতর পোড়া রোগীদের ভেন্টিলেশনের প্রয়োজনীয়তাও হ্রাস করতে পারে। ভিটামিন সি তে থাকা অ্যান্টিঅ্যাক্সিডেন্ট পোড়া ক্ষত গুলোকে নিরাময়ে সহায়তা করে।

উচ্চ মাত্রায় ভিটামিন সি পুড়ে যাওয়ার পরেও কৈশিক ফুটো কমাতে সহায়তা করে থাকে। এবং যেহেতু ভিটামিন সি নতুন টিস্যু বৃদ্ধি করতে এবং নতুন  ত্বক হতে সহায়তা করে থাকে। ভিটামিন সি পোড়া এবং ক্ষত নিরাময়ে বেশ চমৎকার ভাবে কাজ করে।

  2.রোদে পোড়া থেকে বাঁচায়।

ভিটামিন সি এর অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট এর বৈশিষ্ট গুলো কোলাজেন সংশ্লেষণে ভূমিকা রাখে এবং সানবার্ন নিরাময়ে সহায়তা করে। ভিটামিন সি এর উপকারিতা বলে শেষ করা যায় না। ভিটামিন সি গ্রহণ করার সময় অথবা সাময়িক ভিটামিন সি তেলের প্রয়োগ করে এই পরিস্থিতি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এটি জেনে রাখা খুবই দরকারী যে, ভিটামিন সি কেবল মাত্র সান্স ক্রিনের সাথে কিংবা এক সাথে অথবা পাশাপাশি ব্যাবহার করা যেতে পারে। সান্সক্রিন বাদে ব্যাবহার করা যাবে না। ভিটামিন সি ইউভিবি – প্রেরিত এরিথিমা এর প্রভাব কমাতে সহায়তা করে থাকে, একটি গবেষণায় পাওয়া গেছে।

   3.একজিমার চিকিৎসায় সহায়তা করে।

একজিমা থেকে মুক্তিপেতে আমরা যদি প্রতিদিন ৫০০ থেকে ১০০০ গ্রাম ভিটামিন সি এবং ১৫ মিলিগ্রাম জিংক গ্রহন করি । তাহলে এটি একজিমা নিরাময়ে খুব সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

  4. কোলাজেন উৎপাদন 

হাইড্রোক্সিপোলাইন এবং হাইড্রোক্সিলিসিন উৎপাদনের জন্য ভিটামিন সি একটি প্রয়োজনীয় উপাদান, উভয়ই  কোলাজেন দ্বারা উৎপাদিত মলিকিউলস গুলো একত্রিত বা আবদ্ধ করতে প্রয়োজনীয় । আর এগুলো আমাদের ত্বককে সঠিক ভাবে গড়ে তুলতে ও ত্বকের টোন ঠিক রাখতে সহায়তা করে। কোলাজন ত্বকের গভীরে থেকে পুনরূজ্জীবিত করে তুলতে সহায়তা করে থাকে। এবং বলিরেখা ও বাধ্যর্কের লক্ষণ গুলো হ্রাস করে।

  5. ত্বককে বিবর্তন থেকে রক্ষা করে।

ভিটামিন সি ডিএনএ কে ফোটোকেমিক্যালের বিক্রিয়ার থেকে  রক্ষা করে যা টিউমার, ত্বকের বিবর্ণতা যেমত ত্বকের বিবর্ণতা এবং বিভিন্ন ধরনের ত্বকের ক্যান্সারের কারণ হতে পারে।এটি পাইরাইমিডিন ডাইমারস উৎপাদনে বাঁধাদেয় যেগুলো মানুষের মেলানোমাস হওয়ার প্রাথমিক কারণ। এটি ত্বকের গাঢ়ো বিবর্ণতা যেমন ছোট দাগ কিংবা বয়সের ছাপ দূর করে ত্বককে আরও যৌবনা ও মসৃণ করে তুলে।

  6. ত্বকের গঠন ঠিক রাখে।

কোলাজেন দেহে রক্তনালী গুলির গঠন করতে সহায়তা করে থাকে।ত্বকের নিচের স্তরে থাকা ক্ষুদ্র রক্তনালী গুলি অক্সিজেন ও অন্যান্য পুষ্টি বহন  করে যা ত্বককে স্বাস্থবান রাখে । পর্যাপ্ত পুষ্টিবিহীন ত্বক রুক্ষ এবং শুস্ক হয়ে উঠে। ভিটামিন সি যুক্ত ক্রিম গুলো বাহ্যিক ত্বকের উপস্থিতি এবং গঠন উন্নত করে।

ভিটামিন সি ইলাস্টিনের গঠন বাড়ায় যা ত্বকের সেল গুলোকে পুরু করে, নিরাময় করে ও প্রতিরক্ষা করে।ত্বকের পুরু প্রভাবটি ত্বকের আদ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করে, ত্বককে আরও উজ্জল ও কোমল করে  তুলে।

 *চুলের ক্ষেত্রে ভিটামিন সি এর উপকারীতা কি?

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, আমাদের চুলের জন্যও ভিটামিন সি এর অনেক উপকারিতা রয়েছে।

  1. চুলের বৃদ্ধি বাড়ায়

আমাদের চুলের বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলে এমন সব চুলের সমস্যা গুলির বেশিরভাগ কারণ হয়ত ভিটামিন সি কম গ্রহন করার ফলে হয়।ভিটামিন সি এর অভাব চুল শুস্ক  করে ও চুলের আগা ফেঁটে যায়। চুলের নিয়মিত বৃদ্ধির জন্য ভিটামিন এর অভাব মোটেও অনুকূল না বরং ফলে আস্তে আস্তে আমরা চুল হাড়াতে শুরু করবো।

আমরা যে খাদ্য গ্রহণ করি তখন আমাদের শরীর শক্তি উৎপাদনের জন্য ওই খাদ্য গ্লুকোজে পরিণত করে। আর তখন ফ্রি র‍্যাডিক্যাল গুলো আমাদের চুলকে দূর্বল করে দেয় এবং পাতল ও ভঙ্গুর করে দূর্বল করে দেয়। যা চুলের বৃদ্ধিতে বাঁধা দেয়।ভিটামিন সি এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য ফ্রি র‍্যাডিক্যাল গুলোর গঠন হ্রাস করে এবং আমাদের দেহের উপরে এগুলোর প্রভার হ্রাস করে। ফ্রি র‍্যাডিক্যাল এর বিরুদ্ধে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টর ‍সুরক্ষা পেতে আমােদের প্রতিদিনের খাদ্যাভাসে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার রাখা অপরিহার্য। যারা প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি গ্রহণ করে তারা স্বাস্থ্যকর, মজবুত ও ঘন চুলের অধিকারী হয়।

2. খুশকি ধ্বংস কর।

আমাদের চুলের ফলিকলগুলি খুশকি, শুস্ক ও আঁশ উঠা ত্বকের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। এটি চুলের ফলিকলগুলোর ক্ষতি করতে পারে এবং তাছাড়াও চুলের বৃদ্ধিতে বাঁধা দেয়। ভিটামিন সি মাথার ত্বকের ব্যাক্টেরিয়ার সাথে লড়াই করতে সহায়তা করে। চুলের খুশকির ক্ষেত্রে ভিটামিন সি এর উপকারিতা হলো খুশকি দূর করে মৃত ফলিকলগুলো থেকে মুুক্তি দেয় এবং নতুন চুলের বৃদ্ধিতে উৎসাহ করে। এবং অ্যান্টিভাইরাল বৈশিষ্ট্য মাথার ত্বককে শুষ্কতা ও চুলকানি নিরাময় করতে সহায়তা করে।

 3. চুলের অকালে পেঁকে যাওয়া প্রতিরোধ করে।

ভিটামিন  সি শুধু মাত্র চুল ঝরে পড়ার বিরুদ্ধে লড়াই করে না। ভিটামিন সি চুল অসময়ে পেঁকে যাওয়াও প্রতিরোধ করে থাকে। তবে এই  এই বিষয়ে খুব বেশি গবেষণা হয় নি।

ভিটামিন সি এর ‍উপকারিতা সীমাহীন।তাই নয় কী? তবে আমরা যদি এই ভিটামিন এর উৎস সম্পর্কেই না জানি তাহলে কি করে হবে?

  *কোন কোন খাবারে ভিটামিন সি পাওয়া যায়?

আপনার রান্না ঘরেই এমন অনেক খাদ্যসামগ্রী রয়েছে যা ভিটামিন সি এর অসাধারন উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। সল্প খরচের মধ্যেই আমরা এই সকল খাবার আমরা আমাদের হাতের নাগালে পেয়ে থাকি। আর এই সকল খাবারে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি থাকে। এর মধ্যে আছে,১* এক কাপ মরিচে (১০৮ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি  থাকে) ২*বেলে পেপার, (১২০ থেকে ১৯০ মিলিগ্রাম) ৩*ব্রোকলি, (১৩২ মিলিগ্রাম) ৪*পেঁপে, (৮৮.৩ মিলিগ্রাম) ৫*স্ট্রবেরী (৮৪.৭ মিলিগ্রাম) ৬*ফুল কফি(১২৭.৭ মিলিগ্রাম) ৭*আম ( ১২২.৩ মিলিগ্রাম) ৮* আনারস (৭৮.৯ মিলিগ্রাম) ৯*লেবু (১১২.৪ মিলিগ্রাম) ১০* কমলা ( ৯৫.৮ মিলিগ্রাম)

আপনি যদি সেই সকল ব্যাক্তিদের মত  হন, সাপ্লিমেন্টস গ্রহনে অধিক আগ্রহী। তাহলে নিচের লেখাটা আপনার জন্য

 *ভিটামিন সি এর সাপ্লিমেন্টস কি?

ভিটামিন সি এর সাপ্লিমেন্টসগুলোতে সাধারণত এই ভিটামিন অ্যাসকরবিট এসিড আকারে থাকে। কয়েকটি জনপ্রিয় ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ক্যাপসুল কিংবা ট্যাবলেট গুলোর মধ্যে #পোটেন সি  যাকে ইংরেজিতে বলা হয়, (Poten See),  #সিশাইন ইংরেজিতে ( Cshine) #ভিসিএইন (Vcne), #রিডক্সোন (Redoxon) এবং #সেলিন ৫০০ (Celin 500) অন্তরর্ভূক্ত রয়েছে।

এই সাপ্লিমেন্ট গুলো ত্বকের জন্য এবং পুরো শরীরের জন্য খুবই উপকারী।এমন কি এই ভিটামিন সি ইনজেকশন কিংবা অন্যভাবে বললে শিরা দ্বারা প্রবেশ  করানো তরল ভিটামিন সি একই রকম উপকারিতা দিতে পারে। খাদ্য হিসেবে ভিটামিন সি থেকেও ইনজেকশন দিয়ে দেহে প্রবেশ করানো ভিটামিন সি এর ডোজ অনেক বেশি এবং এটি ত্বক, ইমিউনিটি সিস্টেম ও ক্যান্সার রোগীদের জন্য পরিপূরক চিকিৎসা হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে।

ভিটামিন সি এর আরও অনেক রূপ আছে। যেমন ভিটামিন সি ড্রপ, ক্রিস্টলস অথবা পাউপার (মুখের জন্য)। এমনকি এখন অনেকে ত্বকের জন্য ভিটামিন সি ক্রিম ব্যাবহার করে থাকে।

অনেক কিছু তো বলা হলো।কিন্তু ভিটামিন সি কিভাবে গ্রহন করতে হয় তাও আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে।

*ভিটামিন সি কিভাবে খেতে হয়?

ভিটামিন সি গ্রহনের সর্বোত্তম উপায় হ’ল ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবারগুলি আমাদের প্রতিদিনের ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করা।বেশির ভাগ ফল কিংবা শাক-সবজিতে এই ভিটামন সি পাওয়া যায়। সুতারাং আমরা যদি নিয়মিত ফল এবং সবজির সালাদ খেতে পারি তাহলে আমরা নিশ্চিন্তে থাকতে পারি। এমনকি এক গ্লাস জুস এক্ষেত্রে খুবই ভালো কাজ করে থাকে।

কিন্তু সালাদ তৈরির সময় আমাদের হাতে যথেষ্ট সময় নাও থাকতে পারে। সেই অবস্থায় আমাদের ‍উচিৎ সাপ্লিমেন্ট গ্রহন করা। ডোজের উপরে নির্ভর করে আমরা দিনে ২ থেকে ৩ বার ভিটামিন সি এর সাপ্লিমেন্ট নিতে পারি। আমরা এটি খালি পেটেও গ্রহন করতে পারি।কারণ কিছু গবেষনা বলে খালি পেটে ভিটামিন সি আরো ভালো কাজ করে থাকে। আমরা আমাদের জন্য সঠিক ডোজ ঠিক করতে ডক্টর কিংবা পুষ্টিবিদ দের থেকে পরামর্শ নিতে পারি।

ওষুধের ক্ষেত্রে নিয়মিত উদ্ধাবনকে আমরা এখন লিপোসোমাল ভিটামিন সি বলে থাকি।লিপোসোমাল প্রযুক্তি পুষ্টি গুলির শোষণ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ব্যাবহৃত হয়ে থাকে। লিপোসোমাল ভিটামিন সি (OTC) সাপ্লিমেন্ট এর তুলনায় অনেক বেশি সুবিধা প্রদান করে থাকে। পেটে ফসফোলিপিড গুলো শোষনের হার বৃদ্ধি করে।  এবং বেশির ভাগ বিশেষজ্ঞ এর মতে ভিটামিন সি এর উপকারিতা এর একটি সেরা রুপ।

  *প্রতিদিন কতটুকু ভিটামিন সি খাওয়া দরকার?

১৮ বছরের বেশি বয়সী পুরুষদের জন্য প্রতিদিন ভিটামিন সি গ্রহন করা উচিৎ ৯০ মিলিগ্রাম। ১৮ বছরের বেশি বয়সী মহিলাদের ক্ষেত্রে ৭৫ মিলিগ্রাম।এবং গর্ভবতী ও বুকের দুখ খাওয়ানো মহিলাদের জন্য এটি যথাক্রমে ৮৫ থেকে ১২০ মিলিগ্রাম। কয়েক জন বিশেষজ্ঞ এর মতে, যারা ধূমপান করে তাদের নিয়মিত সিগারেট খাওয়ার জন্য অতিরিক্ত আরো ৩৫ মিলিগ্রাম যুক্ত করা দরকার।

শিশুদের জন্য (০ থেকে ১২ মাস) মায়ের বুকের দুধে যে পরিমানে ভিটামিন সি থাকে তাতেই যথেষ্ট। ১ বছর থেকে ৩ বছর বয়সী বাচ্চাদের জন্য ভিটামিন সি গ্রহনের পরিমান ১৫ মিলিগ্রাম, ৪ থেকে ৮ বছর বয়সী বাচ্চাদের জন্য ২৫ মিলিগ্রাম , ৯ থেকে ১৩ বছর বয়সী বাচ্চাদের জন্য ৪৫ মিলিগ্রাম ।

কিশোর এবং কিশোরীদের জন্য (১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী) ছেলেদের জন্য ৭৫ মিলিগ্রাম এবং মেয়েদের জন্য ৬০ মিলিগ্রাম।

যদিও এই পরিমাণগুলো আরডিএ এর মত অনুসারে, কিন্তু ডক্টর আপনার চিকিৎসা এর জন্য আরো বেশি পরিমানে ডোজ দিতে পারে।

সবকিছু যদি ভালোও হয়, তার পরেও যে কোন কিছুতেই আমাদের সাবধানতা অবলম্বন করা উচিৎ। সুতারাং, ভিটামিন সি এর ক্ষেত্রেও বিষয় টা এক।

*ভিটামিন সি খাবারের ক্ষেত্রে কি কোন প্রকার সাবধানতা অবলম্বন করা উচিৎ?

ভিটামিন সি এর কারণে পেটে ব্যাথা, দাঁতেন ক্ষয়, বুকের ব্যাথা, অজ্ঞান হওয়া, ডায়েরিয়া এবং অনিদ্রা, মাথা ব্যাথা, বুক জ্বালা-পোড়া করা,বমি বমি ভাব এবং খাদ্যনালী ফুল যেতে । এরকম কোন লক্ষন দেখা দিলে সাথে সাথে ভিটামিন সি গ্রহণ বন্ধ করুন এবং ডক্টরের সাথে কথা বলুন।

উচ্চমাত্রায় ভিটামিন সি এর গ্রহনে বিষক্রিয়া হতে পারে। রক্ত জমাট বাঁধা, কিডনিতে পাথর এবং পচনতন্ত্রের সমস্যা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে G6PD ঘাটতি আছে এমন লোকদের জন্য এই সমস্যা গুলো সম্পূর্ণ সত্য।এটি এমন একটি অবস্থা যেখানে নিরদিষ্ট কিছু মেডিসিন এবং সংক্রমণের প্রতিক্রিয়াতে লোহিত রক্তকণিকা ভেঙ্গে যায়।

করোনা ভাইরাস কি? এই সম্পর্কে জানতে ভিজিট করুন।

গর্ভাবস্থায় এবং বুকের দুধ  খাওয়ানোর সময় ভিটামিন সি স্বাভাবিক পরিমানে নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে।কিন্তু প্রস্থাবিত ডোজের চেয়ে বেশি ব্যবহার করার সময় অবশ্যই সতর্কতা অবণম্ভন করতে হবে।

*কোন প্রকার মেডিসিন এর সাথে কি ভিটামিন সি এর কার্যকর কোন পার্শ প্রতিক্রিয়া আছে?

নিম্ন লিখিত কয়েকটি মেডিসিনের তালিকা দেওয়া হলো । যা ভিটামিন সি এর সাথে বিক্রিয়া করতে পারে।

  1. অ্যাসপিরিন(Aspirin)
  2. এ্যাসিটামিনোফেন(Acetaminophen)
  3. বারবিটুরেটস(Barbiturates)
  4. কোমথেরাপির ওসুধ(Chemotherapy Medicine)
  5. ওরাল কন্ট্রাসেপ্টিভস (Oral contraceptives)
  6. প্রোটিজ ইনহিবিটরস (Protease inhibitors)
  7. ওয়ারফারিন (Warfarin)
  8. অ্যান্টাসিডক (Antacids)
  9. কিছু অ্যান্টি-সাইকোটিক ড্রাগ যেমন ফ্লাফিনাজিন।(Fluphenazine)

আমাদের দেশে এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ভিটামিন সি এর ঘাটতি বিরল । তার অর্থ এই নয় যে আপনি ভিটামিন সি কে অবহেলা করবেন। আপনি কেবল মাত্র ভিটামিন সি এর উপকারিতা কেই দেখছেন,  তাই নয় কি? সুতরাং আসুন পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সি গ্রহণ করি। নিজে সুস্থ থাকুন, সচেতন থাকুন এবং অন্যকে সচেতন করুন।