Day Night Care

মানব দেহে পানির প্রয়োজনীয়তা

মানব দেহে পানির প্রয়োজনীয়তা

মানবদেহে প্রায় ৭০ ভাগই হচ্ছে পানি। অর্থাৎ মানবদেহের দুই তৃতীয়াংশই হচ্ছে পানি। এর মদ্ধে আমাদের রক্তে ৮৩%, হাড়ে ২২%, মস্তিস্কে ৭৪% এবং পেশিতে ৭৫% পানি রয়েছে। সুস্থ জীবনযাপনের জন্য আমাদের জীবনে পানির গুরুত্ব অপরিসীম

দেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ প্রত্যাঙ্গ গুলোর সঠিক কর্ম সম্পাদনের জন্য পানি প্রয়োজন। যদি যথেষ্ট পরিমানে পানি পান না করা হয় তাহলে শরীর খুব দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পরে। যেমন- গাছের গোড়ায় পানি না দিলে গাছ যেভাবে শুকিয়ে যায়, তেমনি পানির অভাবে মানবদেহের পুষ্টি সরবরাহ ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রনে ব্যাঘাত ঘটে। শরীরের প্রত্যেকটি কাজে পানির প্রয়োজন। শরীরকে সচল ও শারীরিক সক্ষমতার জন্য খাদ্য তালিকায় প্রচুর পানি থাকতে হবে। দেহে পানির অভাব দেখা দিলে নানা রকম সমস্যা সৃষ্টি হয় যেমন- পানিশূন্যতা, কোষ্ঠকাঠিন্য, কিডনির সমস্যা, শরীরে টক্সিন জমা ইত্যাদি।

পানি রক্তে ও কোষে অক্সিজেন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে। এছাড়াও পুরো দেহে রক্ত সরবরাহ ও সঞ্চালন বৃদ্ধি করে পানি। পানি শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রন করে। আমাদের দেহে সঠিক ভাবে খাবার জহম করার জন্য প্রচুর পানির দরকার। তাই খাদ্যের পাশাপাশি প্রচুর পরিমানে পানি পান করতে হবে। পানি কিডনিতে পাথর হওয়া থেকে বাঁচায়, কারন পানি থাকে ইউরিনের লবন ও খনিজ জা কিডনিতে পাথর হওয়া থেকে আটকায়। আমাদের ব্রেইনের ৭৪% হচ্ছে পানি। তাই একটু পর পর পানি পান করলে মানসিক চাপ থেকে মুক্ত থাকা যায় এবং শারীরিক শক্তি বাড়ে।

এছাড়া বিসশে যখন ত্বকের জত্নে নামী দামী প্রসাধন  সামগ্রীর ব্যাবহার বাড়ছে তখন ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা ত্বকের সৌন্দর্য বজায় রাখতে পানি সম্পরকে একটি অভিন্ন তথ্য জানিয়েছে। তারা গবেষনা করে দেখেছে যে ত্বকে পানির পরিমান স্বাভাবিক থাকলে ত্বক ভালো থাকে, ত্বকে ভাজ, র‍্যাশ সহ সব ধরনের ইনফেকশন কমাতে সাহায্য করে। আমাদের শরীর থেকে প্রতিদিন কোন না কোন ভাবে পানি বের হয়ে যায়, যেমন আমাদের ফুস্ফুস থেকে নিঃশ্বাসের সাথে দৈনিক দুই থেকে চার কাপ পানি বের হয়ে যায়।

প্রতিদিন পানি পান করতে হবে তা দেহের ওজন ও কাজের পরিমানের উপর নির্ভর করে। পুশটিবিদ গন বলেন, একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষকে প্রতিদিন কমপক্ষে ৮ গ্লাস অর্থাৎ ২ লিটার পানি করা উচিৎ। তাহলে শরীর সুস্থ থাকবে এবং শরীরের আদ্রতা বজায় থাকবে। এছাড়া জারা বেশি পরিশ্রম করে এবং অতিরিক্ত ঘামে তাদের পানির প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি। আবার যাদের ওজন বেশি তাদের জন্যো পানির প্রয়োজন বেশি। সে জন্য উপযুক্ত পদ্ধতি হলো শরীরের ওজন কে ৩০ দিয়ে ভাগ করলে যে ভাগফল পাওয়া যায় ততটুকু পানি পান করলেই সুস্থ জীবনযাপন করা সম্ভব।

যেমন- কারো শরীরের ওজন ৯০ কেজি, এক্ষেত্রে ৯০ কে ৩০ দিয়ে ভাগ করলে ভাগফল হয় ৩ সুতরাং তার জন্য নিয়মিত ৩ লিটার পানি পান করা অত্যান্ত জরুরি। আবার কখনই এক সঙ্গে অনেক পানি পান করা উচিৎ নয়। ভারি পরিশ্রম বা ব্যায়ামের সময় স্বল্প পরিমানে একটু একটু পানি পান করা উচিৎ।

এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে ‘ দ্যা ইন্টারন্যাশনাল ম্যারাথন মেডিকেল ডিরেক্টর অ্যামেসিয়েশন’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করা হয়। সকলের মাঝে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিশেষ করে তারা এ উপদেশ দিচ্ছে যে তৃষ্ণা পায় ততটুকু পানি পান করা উচিৎ, তারচেয়ে বেশি নয়। কারন বেশি হলেই পানির অপর নাম জীবন নয় তা মরণ ও হতে পারে।